• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
নীলফামারীতে তিন দিনের ইজতেমা শুরু ভোটের দিনে লিফলেট বিতরণের দায়ে জামায়াত নেতার অর্থদন্ড নীলসাগর ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ বিশ্ব স্ট্রোক দিবস: স্ট্রোকের ঝুঁকি, রিহ্যাবের সংকট ও পুনর্বাসনে সচেতনতার আহ্বান তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার হত্যা মামলায় মাগুরার সাবেক ওসি ও এসআই জেলহাজতে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৯ কর্মকর্তা প্রত্যাহার সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র গ্রেপ্তার রানীরবন্দরে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী নিহত “ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী”

এসএসসিতে নতুন করে জিপিএ-৫ পেল ৮০৮ জন

সিসি ডেস্ক, ৩০ জুন।। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সারাদেশের ৫ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ৮০৮জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ ছাড়াও কেউ ফেল থেকে জিপিএ-৫, ফেল থেকে পাস এবং বিভিন্ন স্তরে জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। কেউ আবার আবেদন করে পাস থেকে ফেল হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশের এসব পরিবর্তনের মধ্যে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের খাতায় সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হয়েছে।

জানা গেছে, গত ৩১ মে মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলে সন্তুষ্ট না হয়ে সারাদেশে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী খাতা চ্যালেঞ্জ করে শিক্ষা বোর্ডগুলোতে আবেদন করে। এ কারণে বিভিন্ন বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃমূল্যায়নের জন্য মোট ৪ লাখ ৮১ হাজার ২২২ টি বিষয়ের ফলাফলে আপত্তি তোলা হয়।

তার মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৬০টি, বরিশালে ২৩ হাজার ৮৫০টি, চট্টগ্রামে ৫২ হাজার ২৪৬টি, দিনাজপুরে ৪০ হাজার ৭৫টি, রাজশাহীতে ৪৪ হাজার ৬১টি, সিলেটে ২৩ হাজার ৭৯০টি, কুমিল্লা বোর্ডে ৩৯ হাজার ৩০৩টি, ময়মনসিংহে ৩১ হাজার ৩৩১টি, মাদরাসা বোর্ডে ২৮ হাজার ৪৮৪ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ১৭ হাজার ৫৩৮টি বিষয়ে খাতা পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল।

এর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে আবেদনের সংখ্যা ছিল সব চাইতে বেশি। এ বোর্ডে ৫৯ হাজার ৭৯০ জন আবেদনকারী বিভিন্ন বিষয়ের ফলে আপত্তি জানিয়ে আবেদন করে। সবগুলো বোর্ডে ৫ হাজার ১৮৯ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ৮০৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড: ফলাফলে দেখা গেছে, পুনঃনিরীক্ষায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ১০৫ জন শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯৯ পরীক্ষার্থী। এ বোর্ডে মোট ২ হাজার ২৪৩ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড: দিনাজপুর বোর্ডে মোট জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে ৩৬৭ জন, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫০ জন। ফেল থেকে পাস ৩৫ জন। ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ড: সিলেট বোর্ডের ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে। তার মধ্যে ফেল থেকে পাস করেছে ২৩ শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ পরীক্ষার্থী।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড: ময়মনসিংহ বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৪৭ জন শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩ পরীক্ষার্থী। আবেদন করে উত্তীর্ণ দুই জন পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। মোট ৩৬৪ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড: রাজশাহী বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৩৪ জন শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৪০ জন পরীক্ষার্থী। পুনঃনিরীক্ষণের ফেল করা তিন জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। বোর্ডের ২৫২ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড: চট্টগ্রাম বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ৪১ জন শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৩ জন পরীক্ষার্থী। ফেল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন শিক্ষার্থী। আবেদন করে ৬০৯ জন শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ড: বরিশাল বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছে ২৫ জন শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন পরীক্ষার্থী। মোট ১৩৯ জন পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছে।

যশোর শিক্ষা বোর্ড: যশোর ফল পরিবর্তন ১২৩ জন, ফেল থেকে পাস ৪৪ জন এবং নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫ জন।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড: কুমিল্লা বোর্ডে মোট ফল পরিবর্তন হয়েছে ৪৪১ জনের। নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬১ জন, ফেল থেকে পাস করেছে ৬২ জনের।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: দাখিলে ফেল থেকে পাস করেছে ১০৫ জন শিক্ষার্থী। আর নতুন জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী। ২৪৩ জনের ফল পরিবর্তন হয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড: মাদরাসা বোর্ডে জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে ৮৭ জন, মোট ফল পরিবর্তন ২৪৩ জনের, নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন, ফেল থেকে পাশ করেছে ১০৫ জন। মোট আবেদনের সংখ্যা ছিলো ২৮ হাজার ৫২২টি আর আবেদনকারীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৭৪৩ জন, জিপিএ পরিবর্তন হলেও ফেল থেকে ফেল ২ জন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, খাতা পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে সবকটি উত্তরে নম্বর দেওয়া হয়েছে কি-না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক রয়েছে কি-না, প্রাপ্ত নম্বর ওএমআর শিটে (কম্পিউটারে ফল প্রণয়নে পাঠযোগ্য ফরম) উত্তোলনে ভুল হয়েছে কি-না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটের বৃত্ত ভরাট ঠিক আছে কি-না এসব বিষয় পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।

তিনি বলেন, পরীক্ষা উত্তরপত্র মূল্যায়ণকারী শিক্ষকরা কি কারণে এ ধরণের ভুল হয়েছে তার কারণ জানতে চাওয়া হবে। যে সকল শিক্ষকদের ভুল ধরা পড়ছে তাদের আগামী দুই বছর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ণ থেকে বিরত রাখা হবে। কেউ ইচ্ছে করে তা দায়িত্ব অবহেলা করেছে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত ৩১ মে প্রকাশিত হয় ২০২০ সালেলর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। এবার গড় পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা গতবছর ছিলো ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন, যা গত বছর পেয়েছিল ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। পরীক্ষার ফলে আপত্তি থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য গত ১ জুন শুরু হয়ে পুনঃনিরীক্ষার আবেদন নেওয়া ৭ জুন শেষ হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ